গল্প

অ‍্যান ইভনিং ইন কোটা 
হিমাদ্রি দে   ( বাঘা যতীন পার্ক, শিলিগুড়ি )

রয় ভিলা । তিন তলার এই সুদৃশ্য বাড়িটিকে রাস্তা থেকে দেখলে , অ‍্যাপার্টমেন্ট বলে ভুল হবে। আসলে এটা হলো তিন ভাইয়ের তিন তলা বাড়ি। এই বাড়ির মালিক , বিমল চন্দ্র রায় গত হয়েছেন তাও বছর তিনেক আগে। তারপর তিন ছেলের ভাগবাটোয়ারা।

এখন বিমল রায়ের ছেলেরা, ' রায়' , কে ছেটে 'রয়' , বানিয়ে দিয়েছেন। স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করতে। বিমল রায়ের সব চেয়ে ছোটো ছেলে, সাহেব রয় এর মেয়ে, সহেলী, এবার সিবিএসসির বোর্ড এর দশ ক্লাসের পরীক্ষায় ষাট পার্সেন্ট মার্কস পেয়ে পাশ করেছে। পড়ালেখায় লবডঙ্কা। আর্টস নিয়ে পড়ার কথা ছিলো এগারো ক্লাসে। কিন্তু মার্কস দেখে , পাড়া পড়শী, আত্মীয় স্বজন , সাহেব রয় এর বন্ধু বান্ধব সবার  আবদারে আহ্লাদিত হয়ে , সহেলীর মা বাবা মেয়েকে খুব ব্রিলিয়ান্ট ভেবে এগারো ক্লাসে সাইন্স নিয়ে ভর্তি করিয়ে দিল , এই ভেবে যে মেয়েকে ভবিষ্যতে বড়ো ডাক্তার বানাবে। শহরের সবচেয়ে নামী স্কুলে ভর্তি করানো, সব চেয়ে নামকরা মেডিক্যাল কোচিং সেন্টারে দিয়ে , নিজেদের স্ট‍্যাটাস ডবল করে ফেললেন সাহেব রয় আর ওনার অহংকারী স্ত্রী , মিসেস সাইনি সেন। 'সেন' পদবী কে বিয়ের পর শুধু অফিসিয়াল 'রয়' পদবীতে পরিবর্তন করেছেন, তবে চলতে ফিরতে উনি ওনার পৈতৃক পদবী কেই প্রাধান্য দেন। ওনারা দুজনে খুব ভালো করেই জানেন ওনাদের মেয়ের পড়াশুনার লেভেল , কিন্ত ঐ যে , সোসাইটিতে মুখ উঁচু করে থাকার মিথ্যে আভরন ! আজকাল রাস্তা ঘাটের , পার্টি প্রোগ্ৰামের , হাটে বাজারের কেউ বাকী নেই জানতে যে ওনাদের মেয়ে , সহেলী কে অনেক ডোনেশন দিয়ে বড়ো লোকের স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। আর শহরের সবচেয়ে নামী কোচিং সেন্টারে ভর্তি করিয়েছেন, মেডিক্যাল কোচিং নেবার জন্য। ওনারা যে কিছুই বোঝেন না তা নয়, মেয়ের পড়াশুনার লেভেল কোনো বাবা মা বুঝতে পারেন না , তা হতেই পারে না। কিন্তু ঐ যে মধ‍্যবিত্তের ঘোড়া রোগ। স‍্যাটাস এর পেছনে ছোটার , স‍্যান্ডার্ড এর লেজ ধরে ঝুলে থাকার আর মিথ্যে অহংকারের উপর ভর করে অলীক স্বপ্নে ভেসে থাকার।

কোচিং সেন্টারের হাই লেভেলের পড়াশোনা , সহেলীর মাথায় ঢোকে না। তাতে ওর কোন হোলদোল নেই । প্রায় দু লক্ষ টাকা এককালীন জমা করে দুজনে ভেবেই বসলেন, মেয়ে তাদের ডাক্তার হয়েই যাবে, এটা একটু না ভেবেই যে, তাদের মেয়ে কতটা নিতে পারবে , মেডিক্যাল কোচিং এর চাপ। কোচিং সেন্টারের মিষ্টি কথার ভাঁজে , স্কলারশিপের ফাঁদে বেশ বড়সড় একটা টুপি পরে আড়াই লাখের শওদা , এক লাখ পঁচানব্বই হাজারে রফা করলেন। একটু খোঁজ খবর ও না নিয়েই, যে দামী সামিয়ানার ঝাঁ চকচকে ব্রান্ডের আড়ালে বস্তা পঁচা অতি সাধারণ ফ‍্যাকাল্টী দিয়ে মিথ্যে লোক দেখানো রেজাল্ট দেখিয়ে কেমন করে ধান্দা করে যাচ্ছে সো কল্ড কোচিং সেন্টার গুলো । শুধু  সাহেব রয় কে দোষী করে আর কি হবে ! ওনার মতো আরো অনেক মানুষ যারা মেকি স্ট‍্যাটাস এর সবে গন্ধ পেয়েছে , এ ভাবেই শুধু মাত্র নিজেকে হাই সোসাইটির মানুষ ভেবে , কষ্টে জমানো টাকা, অবুঝের মতো জলাঞ্জলি দিয়ে দিচ্ছে।

কোচিং সেন্টারে আবার বোর্ড লেভেলের পড়াশোনা হয় না। সহেলীর জন্য আলাদা করে ফিজিক্স ,কেমিস্ট্রি , বায়োলজি আর ইংলিশ এর টিচার দেওয়া হলো। আজকাল ছেলে বা মেয়ে এগারো ক্লাসে উঠতে না উঠতেই হঠাৎ করে একটু বেশিই ম‍্যাচিউর হয়ে যায়। মাস দেড়েক স্কুল গিয়েই সহেলী বুঝে গিয়েছে, স্কুল টিচার এর কাছে টিউশন পড়লে বোর্ড পরীক্ষায় প্রাকটিক্যাল এ ফুল মার্কস। আর বারো ক্লাসের প্রি বোর্ড পর্যন্ত নো টেনসন , পাশ করার । স্কুলের টিচার রাই পাশ করানোর দায়িত্ব নিয়ে নেয়, স্কুলের প্রতিটি পরিক্ষায় , কোশ্চেন পেপার লিকেজ করে। রমরমা বাজার। স্কুল গুলো এসব জানে না , তা নয়। কিন্তু টিচার দের মাইনে খুবই কম দেওয়া হয় , তাতে সংসার চলে না। তাই অগত্যা অন্য পন্থা অবলম্বন করতে হয়। সংসারের চাপে ইচ্ছে না থাকলে ও, নীতি জ্ঞান জলাঞ্জলি দিয়ে। সিবিএসসির বা আইসিএসসির স‍্যালারি নর্ম, কিছুই ফলো হয় না স্কুল গুলোতে। মুড়ি মুড়কির মতো বেকার তৈরি হচ্ছে , কলেজ নামক বড়ো বড়ো কড়াইতে। আর ধুরন্ধর সমাজ তাদের কে লুফে নিচ্ছে নিংড়ে শুষে নিতে।

সহেলীর মা বাবা বেজায় খুশি, মেয়ে তাদের কোন দিন মেডিক্যাল কোচিং সেন্টারে বাদ দেয় নি। আর দেবেই বা কেন ? মা বাবার অগোচরেই সহেলী আবার ঐ সেন্টারেই পড়তে আসা একটা বড় লোকের লাফাঙ্গা ছেলেকে বয় ফ্রেন্ড হিসেবে জুটিয়ে নিয়েছে। আজকাল বেশিরভাগই বাঁধন ছাড়া ছেলে মেয়েগুলোর পার্ট টাইম কিম্বা টাইম পাস করার প্রেমের অভাব হয় না। জাত পাত , রং বর্ণ বিচার না করেই। প্রেম না করলে নাকি স্ট‍্যান্ডার্ড থাকে না , বন্ধু বান্ধব দের কাছে।
      এই শহরে সহেলী আর ওর বয় ফ্রেন্ড এর প্রেম করার জায়গার বড়ো অভাব। বাঘা যতীন পার্ক বলে লাভারস মিটিং প্লেস আছে একটা , কিন্তু বাদ সাধে পুলিশ কাকু। হঠাৎ করে জোয়ারের মতো হানা দেয় , তখন দৌড়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও পালাতে হয়। সিটি সেন্টারে অবাধ প্রবেশ উত্তপ্ত প্রেমের, কিন্তু পকেটের দম সবার থাকে না। একটু আড়ালে আবডালে হাতে হাত ধরে , বা জড়িয়ে ধরে যে একটা কিস খাবে , তার ও উপায় নেই। কাকু কাকিমা, দাদু দিদিমা, রাস্তার সবাই দুজনকে একটু বসে থাকতে দেখলেই রাস্তায় যেতে যেতে, কেমন যেনো অসন্তুষ্ট চোঁখে অবহেলার ভঙ্গীতে উপেক্ষা করে । ওদের সবুজ মন ভাবে, ওরা কি খুব অপরাধ করছে , ভালো বেসে !

বারো ক্লাসের বোর্ড পরীক্ষায় , সহেলী আর ওর বয় ফ্রেন্ড এর যা হওয়ার তাই হলো, কোন মতে দুজনে টেনে টুনে ৬০% পেয়ে পাশ করলো। প্রেমের টানে দুজনে ঠিক করলো , রাজস্থানের কোটায় ভর্তি হবে মেডিক্যাল কোচিং করতে এক বছর ড্রপ দিয়ে। দুজনেরই পেরেন্টস কে ওরা জেদ করে রাজি করালো । পড়তে যাবার জন্য নয়, নিভৃতে আরো গভীরে অশান্ত প্রেমের টানে। আর পেরেন্টস গুলো ভেবেই নিলো , কোটায় গেলেই ডাক্তারিতে চান্স পেয়ে যাবে। নিজের ছেলে মেয়েগুলোর পড়াশোনার লেভেল ,  পড়াশোনা করার মানসিকতা আর ব্রেনের নেবার ক্ষমতা বিচার না করেই আরো এক গাদা কষ্টের জমানো টাকা উড়িয়ে দেওয়া হলো।

কোটায় গিয়ে দুজনেই ভ‍্যাবাচকা , নিজের শহরের পুকুরেই সাঁতার কাটতে শিখতে পারলো না , আর এখানে তো সমুদ্র। দুশো থেকে তিনশো স্টুডেন্ট এর মধ্যে কিছুই বোঝা যায় না , কি পড়ানো হচ্ছে। এতো দূর থেকে বোর্ড এর লেখা বোঝার উপায় নেই। স‍্যারকে দূর থেকে পুতুলের মতো লাগে। মাইক্রোফোনের কথা শুনে লিখতে হয়। স্যার কে ক্লাসের পর ডাউট ক্লীয়ার করার কথা দূর অস্ত। উল্টো বকা খেতে হয়। যতো না পড়ানো হয়, তার চেয়ে বেশী হোম ওয়ার্ক । কোন কোন রাতে তো ঘুমের সময় টুকু ও পাওয়া যায় না। একটা পরীক্ষা হতে না হতেই , আর একটা পরীক্ষার বোঝা ঘাড়ে নিঃশ্বাস নিতে থাকে।

প্রেম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে , পড়াশোনা মন্থর গতিতে তার তার গতি খুঁজে বেড়াচ্ছে , আর সিলেবাস তর তর করে দিকভ্রান্ত পথিকের মতো সঠিক দিশার সন্ধান করে যাচ্ছে। মাস ছয়েক ঘুরতে না ঘুরতেই সহেলী আর ওর বয় ফ্রেন্ড, অমর, ভবিষ্যতের রং মহাভারতের বিদূরের মতো স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে , কিন্তু এখন উপায় ! সহেলী বাবা মাকে বলা শুরু করে দিয়েছে, আমার এখানে আর ভালো লাগেনা। পড়াশোনা কিছুই বুঝতে পারছি না , ইউনিট টেস্ট গুলোতে তোমরা আর ভালো ফলের  আশা করো না। আমি ফিরে আসতে চাই। বাবা মার চোখ রাঙানি কে ভয় পেয়ে , বেশি জোরাজুরি ও করতে পারছে না। ওরা দুজনে খুব ভালো মতোই বুঝে গিয়েছে যে , মেডিক্যাল এবার ও আর হলো না।

আজকাল আর কোটা ভালো লাগে না। প্রেমের সব রস এখন শুকিয়ে গেছে। শরীরের যাবতীয় উষ্ণতা , তনু মন থেকে বেরিয়ে গেছে। ওর বয় ফ্রেন্ড, অমর ও আজকাল পাশ কেটে থাকতে চায়। হয়তো সব কিছুই পেয়ে গিয়েছে বলে। মার কথা খুব মনে পড়ে। উষ্ণ প্রস্রবণে অনেক্ষন গা ডুবিয়ে রাখলে, গায়ে ফোস্কা পড়ে যায়।

কিছু দিন থেকেই সহেলী তার বাবা মায়ের কাছে জেদ ধরেছে , আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও। আমার এক মুহুর্ত আর এখানে ভালো লাগছে না। তোমরা যদি আমাকে খুব শীঘ্রই না নিয়ে যাও , তো আমি যে দিকে মন চায় , চলে যাবো। কোন দিন খুঁজে ও পাবে না আর আমাকে।

সহেলী কে নিয়ে ওর বাবা মায়ের আজকাল জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। অশান্তির মেঘ রয় ফ‍্যামিলির শান্তির বাতাবরণ কে অনেক দিন আগে থেকেই দূষিত করে দিয়েছে। অনেক আগেই বোঝা উচিত ছিল মেয়ের পড়াশুনার লেভেল।

মিসেস সাইনি রয় , সহেলীর মা , একপ্রকার জোর করেই সহেলীর বাবাকে কোটার অভিমুখে পাঠিয়ে দিলেন , সহেলীকে নিয়ে আসার জন্য। অনেক হয়েছে আর নয়। দরকার নেই আর ডাক্তার হবার, মেয়ে আমাদের ঠিক মতো ফিরে এলেই হবে। সাহেব রয় এর কোটায় পৌঁছুতে বিকেল হয়ে গেল। হোটেলে ফ্রেস হয়েই ছুটলেন মেয়ের হোস্টেলে।

সিটি মলের উল্টোদিকের ঝালোয়ার রোডে আজ এই সন্ধ্যেতে একটু বেশিই ভীড়। ভীড় ঠেলে সাহেব রয়, সহেলীর হোস্টেলের সামনে  পৌঁছুতেই ইতি উতি শুনতে পেলেন , হায়রে , কেন যে বাবা মারা একদম সাধারণ ছেলে মেয়ে দের এখানে পাঠায় , ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানাতে ! আজকাল আর এখানে পড়াশোনার পরিবেশ নেই। প্রতি বছর সুইসাইড এর হার বেড়েই চলছে। গত বছর ১৫০ এর মতো ছেলে মেয়ে সুইসাইড করেছে। এ বছর আরো বাড়বে। কতো যে স্টুডেন্ট ড্রাগ অ্যাডিক্টেড হয়ে গেছে এখানে এসে, তার কোনো হিসাব নেই। আজকাল তো আবার কচি কাচা মেয়ে গুলো দিনে রাতে হোটেলের বেড ডিউটি করছে। বাবা মা কাছে থাকায় ফ্রীডম এর সুব্যবহার , আর কি ?

সহেলীর ডেড বডি মর্গে পাঠানো হয়েছে , কাল সকালে হসপিটাল থেকে বডি দেবে। অতিরিক্ত টেনশনে আর ফ্রাশটেশনে সহেলী ধীরে ধীরে ড্রাগ অ‍্যাডিক্টেড হয়ে পড়েছিল। এ রকম কতো শতো কুড়ি যে ফুল ফোটার আগেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে , কোটায় এসে , তার কোনো হিসাব নেই। হোস্টেলের আট তলা থেকে সহেলী ওর  নেশাগ্রস্থ দেহটাকে নীচে , অনেক নীচে পাকা রাস্তার উপর পালকের মতো ভাসিয়ে দিয়েছিল।

       পরদিন সকাল সকাল মিসেস সাইনি রয় এর কাছে ফোন এলো অচেনা নম্বর থেকে , ' সাহেব রয় কে আপনি কি চেনেন ? গতকাল সন্ধ্যায় ওনার মেয়ে সুইসাইড করেছে হোস্টেলের আট তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে । আর রাতে উনি , হোটেলের ঘরের ফ‍্যানে .......... । আমি কোটার সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর, দেবেন্দ্র সিং বলছি। দুটো ডেড বডি আমরা সদর হসপিটালের মর্গে রেখে দিয়েছি। আপনারা অতি শীঘ্রই ডেড বডি দুটো নিয়ে যাবার ব‍্যবস্থা করুন।
                                                      -----------------------------------


অনুগল্প : 

নিষিদ্ধ পল্লির মেয়ে

              - রানা সরকার


সন্ধ্যে নামলে ওর পাড়ায় ভিড় জমে, বিদ্যুৎ গতিতে বাইক ছুটিয়ে এসে  ওর সামনে দাঁড়িয়ে এক প্রশ্নবাচক চিহ্ন দিয়ে জিজ্ঞেস করি আজ কতয় যাবি? এরমটাই তো স্বাভাবিক, তাই নয় কি? কে ও আমার , কেও না।দির্ঘ এগারো দিন এভাবে  পার হবার পর আজ হটাত বাড়ি ফিরে নিজেকে অপরাধবোধে ডুবিয়ে রাখলাম নিজেকে কিছুক্ষন। ভুলে গেছিলাম  ওঅ একটা মানুষ। ওর ও একটা মন আছে।ওর ও ভালবাসতে ইচ্ছে করে,গল্প করতে ইচ্ছে করে।ওর মনটা খুব ভারি দেখাচ্ছিল,কিছু একটা বলতে চাইছিল।। অন্যদিনের মতন করে হাসি ঠাট্টায় মাতিয়ে রাখেনি আজ।ঠোটের ডার্ক লিপ্সটিক টা আজ ফিকে দেখাচ্ছিল।  না: আর কিছু না ভেবে সটান বাইক চালিয়ে পৌছে গেলাম তার কাছে ,
সমাজ তাকে বেশ্যা , পতিতা ,এসব নাম দিয়েছে।ওর আসল নামটা এখনো যানা নেই আমার। ওর  পারিশ্রমিক দিয়ে বললাম বাকি রাতটুকু আমার সাথে গল্প করবি? ও হতভম্ভ হয়ে কিছু ক্ষন চেয়ে রইল।তারপর সরু গলির ভিতর দিয়ে আমার অতিপরিচিত ওর কুটিরে গেলাম।দরজা টা আজ খোলা রাখতে বললাম।ওর চোখে জল।আমি বললাম জানিনা।আজ কি হয়েছে আজ আমার তোকে খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছে তাই  বাড়িতে ফিরে এক মুহুরতো থাকতে না পেরে চলে এলাম।ও কান্না করতে করতে বলতে লাগলো। ওর গল্প।ওর নাম মুস্কান।ছোটবেলায় বাবা মা কে হারিয়েছে।ও আর ওর ভাই খুব কস্টে লোকের বারিতে কাজ করে মানুষ। নিজে পড়ালেখা করতে পারেনি।তাই ভাইকে যতটুকু পারবে সে পড়াবে। তবে লোকের বাড়িতে কাজ করে আর কতটুকুই বা স্বপ্ন দেখা যায়!পেট চলাই দুরহ।কোনোদিন খাবার জোটে ত কোনোদিন গালমন্দ।মালিকের পান থেকে চুন খসলেও তার দায়ভার মুস্কান কে নিতে হয়!গ্রামের এক লোকের কাছে শহরের এই মোটা টাকার ব্যাবসার কথা জানতে পারে।সে ভাবলো তিন কুলে যখন আর কেও নেই।ভাল থাকাটাই যখন সব তবে আর ভেবে কি করব।বেছে নিলাম জীবনের এই পথ।ভাইকে শহরের ভাল স্কুলে অ্যাডমিসন করিয়ে হোস্টেলে রেখেছিলাম।মাসে একবার গিয়ে দেখা করে আ।আসি।আজ দির্ঘ তেরো  বছর পর  ভাই বড় হয়েছে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু নিয়তির পরিহাস।সে বাড়ি ফিরে সবটুকু জানতে পারলো।আমার ঘরের একগ্লাস জল ও মুখে তুল্ল না। ভাই চলে যাবার সময় শুধু বল্ল আমি তোকে মায়ের আসনে বসিয়ে ভুল করেছিলাম।মা হলে এমন কাজ করতে পারতিস না ! তখন মুস্কানের চোখ বেয়ে জল নেমে যাচ্ছে অনবরত। আমি যেঁ ওকে কি বলে শান্তনা দেব ভেবেই পাচ্ছিলাম না।ওর শুকনো মুখটা দেখে মনে হল ও সারাদিন কিছু খায়নি।পাসের দোকান থেকে ওর জন্য খাবার এনে ওকে জোর করে  খাইয়ে দিলাম।।।আর বললাম।ভাই ঠিক ফিরে আসবে ওকে আসতেই হবে।তা না হলে ত কোনো এক দিদির মা হয়ে ওঠা সার্থক হবে না....আর হ্যা বেশ্যা শব্দের পুরুষবাচকটি আমার জানা নেই নাহলে সেই শব্দ টি আজ নিজের গায়ে জড়াতাম।

No comments:

Post a Comment