ছোটগল্প :
করোনার ওষুধ / কৌস্তুভ দে সরকার
করোনার ওষুধ / কৌস্তুভ দে সরকার
করোনার করাল গ্রাসের মহামারীর এই সময়ে লকডাউনের গৃহবন্দি অবস্থায় থাকতে থাকতে টিভি দেখে, ফেসবুক, মোবাইলের বিভিন্ন আপডেট দেখে এখন ঘরে ঘরে প্রায় অনেকেই করোনায় ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করে ফেলেছে । করোনা গবেষণার ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই আমার বাড়িও । আমার মা, দাদা, দিদি, বৌদি, ছেলে, ভাস্তা,ভাগ্নি থেকে শুরু করে এক অর্থে আমিও প্রায় করোনা বিশেষজ্ঞে পরিণত হয়েছি । করোনা সচেতনতার ক্ষেত্রে কি করতে হবে, না করতে হবে, কি থেকে করোনা ছড়াচ্ছে, ইত্যাদি ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে অনেক কিছুই জেনে বুঝে ফেলেছি আমরা । শুধু একটাই অসুবিধা যে করোনার এখনো কোনো ভ্যাকসিন বা ওষুধ বাজারে আসেনি। আমার এই গল্প যত এগোবে আমরা ততই সেই ওষুধের হদিস পাবার দিকে অবশ্য এগিয়ে যাব।
মনে পড়ছে, বেশ কিছুকাল আগে আমি আমার এক প্রবন্ধে লিখেছিলাম, বাঙালিরা এক অর্থে যত গরিব, তার থেকে অনেক বেশি দার্শনিক। আর তাই বাঙালির জীবন চর্যায় ফুরোয় না স্বপ্ন, কবিতা, গান। সেরকমই লকডাউনের এই বন্দীদশায় মানসিক জোর বজায় রাখতে ও সবাইকে খুশ রাখতে আজ দুপুরে আমি যখন স্টারমেকারে গান করছিলাম ঠিক তখনই মায়ের ফোনটা এলো।
- কিরে, কি করছিস?
আমি বললাম, এইতো - পাগলামি, গান করছি ।
মা বলল, কাল তোর একটা ভালো গান শুনলাম। বুটা আমাকে ওর মোবাইল থেকে শোনালো। এত গান যে করছিস, তোর গলা শুকিয়ে যায় না? জল খাচ্ছিস তো ঠিকমতো? তারপর একথা সেকথা হওয়ার পর মা বললো, আজ একটা নতুন জিনিস হয়েছে জানিস?
আমি বললাম, কি ?
মা বলে, করোনার ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে।
আমি বললাম, তাই নাকি? কে করলো? বাঃ দারুন তো।
মা জানায়, তোর বৌদি ।
আমি বললাম, সেকি ! কিভাবে?
মা বলে, স্বপ্নে পেয়েছে। রায়গঞ্জের জি.আর.বক্সী যেরকম স্বপ্নে নাকি সাপের ওষুধ পেয়েছিলেন, সেরকমই।
আমি বললাম, শুনি,ওষুধটা কিরকম।
মা বলে, একটা বেলপাতার একটা পাতা আর একটা তুলসী পাতা নিবি, আর একটা গোলমরিচ। এই তিনটা জিনিস প্রথমে মাথায় ঠেকিয়ে মানে প্রণাম করে তারপর দুই হাতে ছুঁয়ে সেগুলো চিবিয়ে খেতে হবে ।
আমি বললাম, গোলমরিচ তো এমনিতেই খুব ভালো সর্দি কাশির পক্ষে । গোলমরিচ খেলে কিছুটা হলেও কফ বা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা কমে। এক চামচ গোলমরিচ গুড়ো ও মধু বুকে জমা সর্দি তুলতেও সাহায্য করে।যেকোনো ভাইরাল ইনফেকশন রোধ করে। গরম জলে গোলমরিচ আর একটু ইউক্যালিপটাস অয়েল মিশিয়ে, সেই স্টিমটা নিলে বন্ধ নাক ছেড়ে যায়। হালকা সর্দি কাশি ছাড়াও যদি জ্বর আসে তাতেও গোলমরিচ কাজ করে। এতে আছে প্রচুর ভিটামিন সি, যা অ্যান্টিবায়োটিকের মত কাজ করে। জ্বরের সময় গোলমরিচ খেলে অত্যন্ত ঘাম হয় আর জ্বর ছেড়ে যায়। গলা ব্যাথা কমাতেও সাহায্য করে। গোলমরিচ ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ব্যাহত করে ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, গ্যাসট্রিকের সমস্যা দূর করে,ওজন কমাতে সাহায্য করে, কোমর বা পাঁজরের ব্যথা সারাতে গোল মরিচ চূর্ন গরম জলের সাথে সকাল ও বিকেলে একবার করে খাওয়া যায়।
আর তুলসী পাতাও ভালো। তুলসী পাতা খেলে রক্ত পরিশুদ্ধ হয়, এটা খেলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদান এবং টক্সিন শরীরের বাইরে বেরিয়ে যায়। ফলে শরীর ভিতর থেকে চাঙ্গা হয়ে ওঠে। ডায়াবেটিস দূরে থাকে, মেটাবলিক ড্যামেজ-এর হাত থেকে লিভার ও কিডনি-কে বাঁচাতেও তুলসী পাতা দারুণভাবে সাহায্য করে। তুলসি পাতায় উপস্থিত ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট শরীরের ভেতরকার ক্যান্সার সেল যাতে কোনওভাবেই জন্ম নিতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে ক্যান্সার রোগ ধারেকাছে ঘেঁষার সুযোগই পায় না। তুলসি পাতা লাংস, লিভার, ওরাল এবং স্কিন ক্যান্সারও প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা নেয়। আসলে ফাইটোনিউট্রেয়েন্ট-এর পাশাপাশি তুলসি পাতায় থাকা একাধিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও এক্ষেত্রে বিশেষ কাজ করে। তুলসি পাতা খাওয়া মাত্র কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ কমে যেতে শুরু করে। ফলে স্ট্রেস লেভেলও কমতে শুরু করে। তুলসি পাতা যে কোনও ধরনের মাথা যন্ত্রণা কমাতেও দারুণভাবে সাহায্য করে।
তুলসি হল প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। তাই তো জ্বর এবং সর্দি-কাশি সারাতে এই প্রাকৃতিক উপাদানটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে তুলসি পাতা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র যে যে ভাইরাসের কারণে জ্বর হয়েছে, সেই জীবাণুগুলোকে মারতে শুরু করে। ফলে শরীর ধীরে ধীরে চাঙ্গা হয়ে ওঠে।
বেলপাতারও অনেক গুন। বেলে এ্যান্টিফাঙ্গাল, এ্যান্টিপ্যারাসাইট গুণ রয়েছে যা হজমের জন্য লাভজনক। বেল ভিটামিন সি-এর ভাল উৎস। বেল পাতার রস ভিটামিন সি-এর পরিপূরক হওয়ায় এটি শরীরের অনাক্রম্যতাও বাড়ায়।
তবে, মা আমাকে ভেষজ বিজ্ঞানের বাইরে ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিলেন। বললেন বেলপাতাটা হল শিব ঠাকুর। আর, তুলসী পাতা মানে হলো স্বয়ং ভগবান শ্রী বিষ্ণু। আর গোল মরিচ মানে তেজ, সৃষ্টির আদি দেবতার সেই তেজ যার অর্থ স্বয়ং ব্রহ্মা । তাহলে এই বেলপাতা, গোলমরিচ আর তুলসিতে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর তিনজনকেই পাওয়া যাচ্ছে । আর এই ওষুধটা খাওয়ার পরে সন্ধ্যাবেলায় ভবসাগর করতে লাগবে অর্থাৎ গুরুবন্দনা ।
আমি বললাম, বেশ। কালকে স্নান করে শুদ্ধ হয়ে তারপর এইসব জিনিস নিয়ম করে খাব ।
মা তাতে খুব খুশি হল । আসলে মাকে খুশি করাটাই আমার চিরকালের উদ্দেশ্য। তার মাধ্যমে আমিও খুশি হই। আর , বৌদির আবিস্কার করোনার ওষুধ, খাবো তো বটে । তবে মনে মনে সেই প্রবাদ বাক্যটিও আওড়াবো, বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর।
মনে পড়ছে, বেশ কিছুকাল আগে আমি আমার এক প্রবন্ধে লিখেছিলাম, বাঙালিরা এক অর্থে যত গরিব, তার থেকে অনেক বেশি দার্শনিক। আর তাই বাঙালির জীবন চর্যায় ফুরোয় না স্বপ্ন, কবিতা, গান। সেরকমই লকডাউনের এই বন্দীদশায় মানসিক জোর বজায় রাখতে ও সবাইকে খুশ রাখতে আজ দুপুরে আমি যখন স্টারমেকারে গান করছিলাম ঠিক তখনই মায়ের ফোনটা এলো।
- কিরে, কি করছিস?
আমি বললাম, এইতো - পাগলামি, গান করছি ।
মা বলল, কাল তোর একটা ভালো গান শুনলাম। বুটা আমাকে ওর মোবাইল থেকে শোনালো। এত গান যে করছিস, তোর গলা শুকিয়ে যায় না? জল খাচ্ছিস তো ঠিকমতো? তারপর একথা সেকথা হওয়ার পর মা বললো, আজ একটা নতুন জিনিস হয়েছে জানিস?
আমি বললাম, কি ?
মা বলে, করোনার ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে।
আমি বললাম, তাই নাকি? কে করলো? বাঃ দারুন তো।
মা জানায়, তোর বৌদি ।
আমি বললাম, সেকি ! কিভাবে?
মা বলে, স্বপ্নে পেয়েছে। রায়গঞ্জের জি.আর.বক্সী যেরকম স্বপ্নে নাকি সাপের ওষুধ পেয়েছিলেন, সেরকমই।
আমি বললাম, শুনি,ওষুধটা কিরকম।
মা বলে, একটা বেলপাতার একটা পাতা আর একটা তুলসী পাতা নিবি, আর একটা গোলমরিচ। এই তিনটা জিনিস প্রথমে মাথায় ঠেকিয়ে মানে প্রণাম করে তারপর দুই হাতে ছুঁয়ে সেগুলো চিবিয়ে খেতে হবে ।
আমি বললাম, গোলমরিচ তো এমনিতেই খুব ভালো সর্দি কাশির পক্ষে । গোলমরিচ খেলে কিছুটা হলেও কফ বা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা কমে। এক চামচ গোলমরিচ গুড়ো ও মধু বুকে জমা সর্দি তুলতেও সাহায্য করে।যেকোনো ভাইরাল ইনফেকশন রোধ করে। গরম জলে গোলমরিচ আর একটু ইউক্যালিপটাস অয়েল মিশিয়ে, সেই স্টিমটা নিলে বন্ধ নাক ছেড়ে যায়। হালকা সর্দি কাশি ছাড়াও যদি জ্বর আসে তাতেও গোলমরিচ কাজ করে। এতে আছে প্রচুর ভিটামিন সি, যা অ্যান্টিবায়োটিকের মত কাজ করে। জ্বরের সময় গোলমরিচ খেলে অত্যন্ত ঘাম হয় আর জ্বর ছেড়ে যায়। গলা ব্যাথা কমাতেও সাহায্য করে। গোলমরিচ ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ব্যাহত করে ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, গ্যাসট্রিকের সমস্যা দূর করে,ওজন কমাতে সাহায্য করে, কোমর বা পাঁজরের ব্যথা সারাতে গোল মরিচ চূর্ন গরম জলের সাথে সকাল ও বিকেলে একবার করে খাওয়া যায়।
আর তুলসী পাতাও ভালো। তুলসী পাতা খেলে রক্ত পরিশুদ্ধ হয়, এটা খেলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদান এবং টক্সিন শরীরের বাইরে বেরিয়ে যায়। ফলে শরীর ভিতর থেকে চাঙ্গা হয়ে ওঠে। ডায়াবেটিস দূরে থাকে, মেটাবলিক ড্যামেজ-এর হাত থেকে লিভার ও কিডনি-কে বাঁচাতেও তুলসী পাতা দারুণভাবে সাহায্য করে। তুলসি পাতায় উপস্থিত ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট শরীরের ভেতরকার ক্যান্সার সেল যাতে কোনওভাবেই জন্ম নিতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে ক্যান্সার রোগ ধারেকাছে ঘেঁষার সুযোগই পায় না। তুলসি পাতা লাংস, লিভার, ওরাল এবং স্কিন ক্যান্সারও প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা নেয়। আসলে ফাইটোনিউট্রেয়েন্ট-এর পাশাপাশি তুলসি পাতায় থাকা একাধিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও এক্ষেত্রে বিশেষ কাজ করে। তুলসি পাতা খাওয়া মাত্র কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ কমে যেতে শুরু করে। ফলে স্ট্রেস লেভেলও কমতে শুরু করে। তুলসি পাতা যে কোনও ধরনের মাথা যন্ত্রণা কমাতেও দারুণভাবে সাহায্য করে।
তুলসি হল প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। তাই তো জ্বর এবং সর্দি-কাশি সারাতে এই প্রাকৃতিক উপাদানটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে তুলসি পাতা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র যে যে ভাইরাসের কারণে জ্বর হয়েছে, সেই জীবাণুগুলোকে মারতে শুরু করে। ফলে শরীর ধীরে ধীরে চাঙ্গা হয়ে ওঠে।
বেলপাতারও অনেক গুন। বেলে এ্যান্টিফাঙ্গাল, এ্যান্টিপ্যারাসাইট গুণ রয়েছে যা হজমের জন্য লাভজনক। বেল ভিটামিন সি-এর ভাল উৎস। বেল পাতার রস ভিটামিন সি-এর পরিপূরক হওয়ায় এটি শরীরের অনাক্রম্যতাও বাড়ায়।
তবে, মা আমাকে ভেষজ বিজ্ঞানের বাইরে ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিলেন। বললেন বেলপাতাটা হল শিব ঠাকুর। আর, তুলসী পাতা মানে হলো স্বয়ং ভগবান শ্রী বিষ্ণু। আর গোল মরিচ মানে তেজ, সৃষ্টির আদি দেবতার সেই তেজ যার অর্থ স্বয়ং ব্রহ্মা । তাহলে এই বেলপাতা, গোলমরিচ আর তুলসিতে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর তিনজনকেই পাওয়া যাচ্ছে । আর এই ওষুধটা খাওয়ার পরে সন্ধ্যাবেলায় ভবসাগর করতে লাগবে অর্থাৎ গুরুবন্দনা ।
আমি বললাম, বেশ। কালকে স্নান করে শুদ্ধ হয়ে তারপর এইসব জিনিস নিয়ম করে খাব ।
মা তাতে খুব খুশি হল । আসলে মাকে খুশি করাটাই আমার চিরকালের উদ্দেশ্য। তার মাধ্যমে আমিও খুশি হই। আর , বৌদির আবিস্কার করোনার ওষুধ, খাবো তো বটে । তবে মনে মনে সেই প্রবাদ বাক্যটিও আওড়াবো, বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর।