Sunday, July 7, 2019

অনুগল্প

নিষিদ্ধ পল্লির মেয়ে

              - রানা সরকার


সন্ধ্যে নামলে ওর পাড়ায় ভিড় জমে, বিদ্যুৎ গতিতে বাইক ছুটিয়ে এসে  ওর সামনে দাঁড়িয়ে এক প্রশ্নবাচক চিহ্ন দিয়ে জিজ্ঞেস করি আজ কতয় যাবি? এরমটাই তো স্বাভাবিক, তাই নয় কি? কে ও আমার , কেও না।দির্ঘ এগারো দিন এভাবে  পার হবার পর আজ হটাত বাড়ি ফিরে নিজেকে অপরাধবোধে ডুবিয়ে রাখলাম নিজেকে কিছুক্ষন। ভুলে গেছিলাম  ওঅ একটা মানুষ। ওর ও একটা মন আছে।ওর ও ভালবাসতে ইচ্ছে করে,গল্প করতে ইচ্ছে করে।ওর মনটা খুব ভারি দেখাচ্ছিল,কিছু একটা বলতে চাইছিল।। অন্যদিনের মতন করে হাসি ঠাট্টায় মাতিয়ে রাখেনি আজ।ঠোটের ডার্ক লিপ্সটিক টা আজ ফিকে দেখাচ্ছিল।  না: আর কিছু না ভেবে সটান বাইক চালিয়ে পৌছে গেলাম তার কাছে ,
সমাজ তাকে বেশ্যা , পতিতা ,এসব নাম দিয়েছে।ওর আসল নামটা এখনো যানা নেই আমার। ওর  পারিশ্রমিক দিয়ে বললাম বাকি রাতটুকু আমার সাথে গল্প করবি? ও হতভম্ভ হয়ে কিছু ক্ষন চেয়ে রইল।তারপর সরু গলির ভিতর দিয়ে আমার অতিপরিচিত ওর কুটিরে গেলাম।দরজা টা আজ খোলা রাখতে বললাম।ওর চোখে জল।আমি বললাম জানিনা।আজ কি হয়েছে আজ আমার তোকে খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছে তাই  বাড়িতে ফিরে এক মুহুরতো থাকতে না পেরে চলে এলাম।ও কান্না করতে করতে বলতে লাগলো। ওর গল্প।ওর নাম মুস্কান।ছোটবেলায় বাবা মা কে হারিয়েছে।ও আর ওর ভাই খুব কস্টে লোকের বারিতে কাজ করে মানুষ। নিজে পড়ালেখা করতে পারেনি।তাই ভাইকে যতটুকু পারবে সে পড়াবে। তবে লোকের বাড়িতে কাজ করে আর কতটুকুই বা স্বপ্ন দেখা যায়!পেট চলাই দুরহ।কোনোদিন খাবার জোটে ত কোনোদিন গালমন্দ।মালিকের পান থেকে চুন খসলেও তার দায়ভার মুস্কান কে নিতে হয়!গ্রামের এক লোকের কাছে শহরের এই মোটা টাকার ব্যাবসার কথা জানতে পারে।সে ভাবলো তিন কুলে যখন আর কেও নেই।ভাল থাকাটাই যখন সব তবে আর ভেবে কি করব।বেছে নিলাম জীবনের এই পথ।ভাইকে শহরের ভাল স্কুলে অ্যাডমিসন করিয়ে হোস্টেলে রেখেছিলাম।মাসে একবার গিয়ে দেখা করে আ।আসি।আজ দির্ঘ তেরো  বছর পর  ভাই বড় হয়েছে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু নিয়তির পরিহাস।সে বাড়ি ফিরে সবটুকু জানতে পারলো।আমার ঘরের একগ্লাস জল ও মুখে তুল্ল না। ভাই চলে যাবার সময় শুধু বল্ল আমি তোকে মায়ের আসনে বসিয়ে ভুল করেছিলাম।মা হলে এমন কাজ করতে পারতিস না ! তখন মুস্কানের চোখ বেয়ে জল নেমে যাচ্ছে অনবরত। আমি যেঁ ওকে কি বলে শান্তনা দেব ভেবেই পাচ্ছিলাম না।ওর শুকনো মুখটা দেখে মনে হল ও সারাদিন কিছু খায়নি।পাসের দোকান থেকে ওর জন্য খাবার এনে ওকে জোর করে  খাইয়ে দিলাম।।।আর বললাম।ভাই ঠিক ফিরে আসবে ওকে আসতেই হবে।তা না হলে ত কোনো এক দিদির মা হয়ে ওঠা সার্থক হবে না....আর হ্যা বেশ্যা শব্দের পুরুষবাচকটি আমার জানা নেই নাহলে সেই শব্দ টি আজ নিজের গায়ে জড়াতাম।
                  
         

No comments:

Post a Comment